fav najrul

প্রবন্ধ:।। বিদ্রোহী কবিসত্বায় নজরুল।।
রিম্পা ষড়ংগী
০৩/০৭/২০
বিদ্রোহী কবি বলতে যার মুখ হৃদয়ের ফেনিল উচ্ছ্বাসে আজো উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে তিনি আর কেউ নন নিপীড়িত মানবাত্মার পূজারী,সাম্যবাদের কাণ্ডারি  কবি নজরুল ইসলাম।নতুনের বিজয় কেতন উড়িয়ে,মধুর রোম্যান্টিক বাংলা কাব্য অঙ্গনে বিদ্রোহের রণদামামা বাজিয়ে পাঠকের চেতনায় যিনি তুলেছিলেন কালবোশেখি র ঝড়,তিনিই সেই বিদ্রোহী কবিসত্বা,বাংলা কাব্যজগতের stormy petrel.
নজরুলের কন্ঠে ধ্বনিত সেই বিশ্ব মানবতার স্পন্দিত প্রতিশ্রুতি।বিংশ শতাব্দীর মার্ক্স লেনিনের সংগ্রামী চেতনার তরংগায়িত প্রক্ষেপ নজরুলের লেখণিতে,,,কবির সুদৃঢ
উচ্চারণ " মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে বিংশ শতাব্দীর"।নজরুল এক সৃজনশীল সংগ্রামী সত্তা।কারাগারের শৃঙখল পরে,বুকের রক্ত দিয়ে তিনি যা লিখেছেন তা বাঙালি প্রানে এক নতুন স্পন্দন জাগিয়ে তুলেছে।
সাম্যবাদী এই কবি সাম্যবাদ পিয়াসী।
তাই তিনি বলেছেন"সমস্ত সাম্প্রদায়িকতার মাতলামির অবসান হবে সেদিন যেদিন হিন্দু মুসলমান পরষ্পর পরষ্পর কে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিয়ে আলিংগন করতে পারবে।সেদিন যে competition হবে তা হল cultured মনেরchivalrous competition.কাণ্ডারি হুঁশিয়ার কবিতাটিতে তাঁ্র এই ভাবনা পরিষ্ফূট: অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া জানেনা সন্তরণ / কান্ডারী আজ দেখিব তোমার মাতৃ মুক্তিপণ /হিন্দু না ওরা মুসলিম  ওই জিজ্ঞাসে কোন জন/ কাণ্ডারি বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার।
বাস্তবিকপক্ষে নজরুল  এক যুগ প্রতিনিধির কবি।যিনি দেখেছেন দৈন্য অভাব পীড়িত ভারতবাসী র মুখ।মানবাত্মার করুণ মুখচ্ছবি।জীবনের বিষন্ন মিছিল।শুনেছেন সেইsad music of humanity.তাই সামাজিক  বৈষম্য থেকে শুরু করে শোষনের নির্মম সত্য কে ক্ষতবিক্ষত করেছেন বারে বারে।
বিদ্রোহ তাঁ্র চেতনায়,ধমনীতে।সমাজের শোষনের বিরুদ্ধে তাঁ্র বিদ্রোহ সতত।তবে তাঁ র বিদ্রোহ শুধু ভাঙার জন্যে নয়।তিনি লিখেছিলেন:" নতুন করে ভাঙতে চাই বলেই ত গড়ি।শুধু ভাঙার জন্যেই ভাঙার গান আমার নয়।বিদ্রোহী কবিতায় ধরা পড়েছে সেই বলিষ্ঠ ভাবমূর্তি:"আমি মৃন্ময় আমি চিন্ময়/ আমি অজর,অমর,অক্ষয়,আমি অব্যয়।/আমি মানব দানব দেবতার ভয়,বিশ্বের আমি চির দুর্জয় / জগদীশ্বর ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য/ আমি তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ পাতাল মর্ত।
নজরুলের এই আমি একক কোন সত্তা নয়।আমির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর যৌবন শক্তি কে দ্যোতিত করেছেন কবি।প্রদীপ্ত কন্ঠে ঘোষনা করেছেন"মহা বিদ্রোহী রণক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত,যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবেনা, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবেনা"।।

Comments

Popular posts from this blog

পরিস্থিতি

03/06/20

কাব্য কথায়